মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় কী কী বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার?

 "মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় কী কী বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার?"


1। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হতে চলেছো তোমরা। নিজের চেনা পরিবেশের বাইরে অন্য বিদ্যালয়ে যেতে হবে। যদিও সেখানকার শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ তোমার অপরিচিত তথাপি তারা তোমাদের প্রতিটি অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। সুতরাং নির্ভয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাবে। পরীক্ষা কেন্দ্র কোথায় পড়ল তা নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করবে না। পরীক্ষার আগের দিন ভারী খাবার খাবে না, রাত জেগেও পরবেনা।


2। বিদ্যালয়ের পোশাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলি অবশ্যই সঙ্গে রাখবে। প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে দেখে নেবে, এডমিট কার্ড, রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে নিয়েছে কিনা। প্রয়োজনীয় পেন, পেন্সিল, অতিরিক্ত পেন এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলের বোতল সঙ্গে রাখবে।


3। ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন, প্রোগ্রামিং করা ডিজিটাল ঘড়ি ইত্যাদি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে প্রবেশ করবে না। এগুলি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এগুলো বাজেয়াপ্ত করতে পারেন।


4। প্রথম পরীক্ষার দিন পরীক্ষা কেন্দ্রে 11টার মধ্যে পৌছবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করার আগের মুহূর্তে তোমার এডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড দুটি হাতে রাখবে। পরীক্ষাকেন্দ্রের গেট খুললে ভেতরে প্রবেশ করবে এবং নিজের এডমিট কার্ডের নম্বর অনুসারে রুম নম্বর, সিট নম্বর দেখে নির্দিষ্ট রুমে গিয়ে বসে পড়বে। এ বিষয়ে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীগণ সবরকম সহযোগিতা করবেন।


5। পরীক্ষার হলে পৌছে তোমার এডমিট কার্ড রেজিস্ট্রেশন কার্ড এগুলি দেখে সিট নম্বর মিলিয়ে সিটে বসবে। 11 টা 45 মিনিটে তোমাদের প্রশ্ন পত্র দেয়া হবে, বারোটা বাজতে পাঁচ মিনিট আগে তোমাদের খাতা দেওয়া হবে। এই 15 মিনিট সময় ঠান্ডা মাথায় প্রশ্নপত্রটি খতিয়ে দেখবে অযথা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করবে না। মনে রাখবে পরীক্ষা শুরুর মুহূর্তে নিজেকে যত শান্ত রাখতে পারবে উত্তর ততো ভালো লিখতে পারবে।


6। খাতা পাওয়ার পর তোমার এডমিট কার্ড এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং রোল নম্বর, নাম ইত্যাদি সঠিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে লিখবে। এডমিট কার্ডে ঠিক যে বানানো আছে তাই লিখবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে।


7। এরপর খাতার তিন দিকে অর্থাৎ উপরে, বামদিকে এবং ডানদিকে সমান মাপের এক ইঞ্চি করে মার্জিন টানবে। মনে রাখবে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় তোমাদের এই ছেড়ে যাওয়া জায়গায় পরীক্ষার নম্বর বসাবেন পরীক্ষক। তাই এই পরিমান জায়গা অবশ্যই ছাড়বে এছাড়া এতে খাতার সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত জায়গা নষ্ট করে কখনোই মার্জিন টানবে না।


8। হাতের লেখা সবার এক রকম হয় না। তবুও তুমি তোমার হাতের লেখায পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে লিখবে অর্থাৎ এমনভাবে লিখবে, যাতে কি লিখেছো যেন বোঝা যায়। ভুল হলে কাটার সময় হিজিবিজি করে কাটবে না, একটা লাইন টেনে টেনে কাটবে। মনে রাখবে সঠিক বানান এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন উত্তরপত্র যেকোনো পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।


9। উত্তরপত্রের মধ্যে প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর লিখবে। অতিরিক্ত বা পরীক্ষার বাইরের কোনো বিষয় কখনোই উত্তরপত্রের মধ্যে লিখবে না।


10। প্রতিটি বিভাগ দাগ নম্বর অবশ্যই উত্তরপত্রের মধ্যে লিখবে এবং দাগ নম্বর অবশ্যই বামদিকে যে মার্জিন টেনেছ তার মধ্যেই লিখতে হবে।


11। উত্তরপত্রের প্রথম পাতার উল্টোদিকে কখনো কিছু লিখবে না খালি রাখবে। তার পরের পৃষ্ঠা থেকে লেখা শুরু করবে। যদি ভুল করে কোন পৃষ্ঠা ছেড়ে গিয়ে থাকো তাহলে সেই পৃষ্ঠার নিচে ডানদিকে PTO কথাটি লিখে দেবে।


12। নীল ও কালো রংয়ের কালির পেন ছাড়া অন্য কোন পেন ব্যবহার করবে না। যদি উত্তর নীল কালিতে লেখো, তাহলে সেই উত্তরের পয়েন্টগুলোকে কালো কালিতে লিখতে পারো। অথবা উল্টোটাও করতে পারো। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর পয়েন্ট করে বা হেডিং করে লিখলে উত্তরপত্র দেখার সময় পরীক্ষকের খাতা দেখতে সুবিধা হবে।


13। অতিরিক্ত পেজ নিলে তাতে তোমার নাম, রোল নম্বর অবশ্যই লিখবে, আর খাতার ডান দিকের কোনায় পেজ নম্বর লিখবে। এতে খাতা বাঁধতে সুবিধা হবে।


14। পরীক্ষা চলাকালীন কোন অসদুপায় অবলম্বন করবে না। অযথা কথা বলে ঘরের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে না। কোন প্রশ্ন বুঝতে অসুবিধা হলে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে জিজ্ঞেস করবে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে না। আর কখনোই ভুলেও তোমার অতিরিক্ত পেজ বা মূল খাতা পাশের পরীক্ষার্থীর সুবিধার জন্য দেবেনা। এটি অত্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধ।


15। প্রথম ঘন্টা পড়ার পর টয়লেট যেতে হলে পেন, পেন্সিল, কাগজ বা প্রশ্নপত্র সঙ্গে নিয়ে যাবে না।


16। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সময় ধরে লেখার চেষ্টা করবে। কোন প্রশ্নের উত্তর অজানা থাকলে তা নিয়ে অযথা চিন্তা করে সময় নষ্ট করবে না।


17। পরীক্ষা শেষ হওয়ার 15 মিনিট আগে Warning Bell পড়লে পৃষ্ঠা নাম্বার ধরে খাতাটিকে সুন্দর ভাবে বেঁধে ফেল। তারপর যদি কোন প্রশ্নের উত্তর বাকি থাকে তা লেখার চেষ্টা করবে। অথবা যে প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখেছ তা একবার ভালো করে দেখে নিতে পারো।


18। তুমি যে কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছ সেই কেন্দ্রের কোন সম্পত্তির ক্ষতি করার কথা ভাববে না মনে রাখবে পর্ষদ এবং প্রশাসন এ বিষয়ে যথেষ্ট কঠোর তোমার আচরণে তোমার বিদ্যালয়ে তোমার প্রিয় শিক্ষক শিক্ষিকা সম্পর্কে যেন বিরূপ মনোভাব তৈরি না হয়।


19। পরীক্ষার শেষে খাতা অবশ্যই পরীক্ষকের কাছে জমা দেবে। যদি কোন কারনে ভুল করেও ওই খাতা নিয়ে পরীক্ষা হলের বাইরে চলে এসে থাকো, তাহলে সেই পরীক্ষা বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। তুমি অসত উপায় অবলম্বন করেছো বলে ধরা হবে। থানা-পুলিসের সাহায্য নিয়ে শাস্তির ব্যবস্থাও করা হতে পারে।


20। শারীরিক অসুবিধা হলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে হলে জেনে থাকবেন সেই শিক্ষক-শিক্ষিকা কে জানাবে মনে রাখবে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মী করুন সবসময় প্রস্তুত আছেন তাদের সহায়তা করার জন্য।


https://youtu.be/yvHgbuEKE7A?si=2Nf_mFVuIQALSSMV






Comments

Popular posts from this blog

HOW TO REMEMBER MAP POINTING PROPERLY

ভূমিরূপ প্রক্রিয়া ও উদ্ভূত ভূমিরূপ